
সুমন খান:
রাজধানীর মিরপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশের সাহসী অভিযানে সংগঠনের ছয়জন সক্রিয় নেতাকর্মী গ্রেফতার হয়।
মিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ রোমান নিজেই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। পুলিশি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে গোপনে সক্রিয় থেকে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড সংগঠিত করার চেষ্টা করছিল।গ্রেফতারকৃতরা সবাই রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাবশালী এবং পূর্বেও নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।
তারা হলো—মো. জুয়েল রানা (৩৫) — সভাপতি, সুজানগর পৌর যুবলীগ ও ভাইস চেয়ারম্যান, সুজানগর উপজেলা ছাত্রলীগ।আল নমান সাইফ (২৯) চট্টগ্রাম মহানগরের এজিএস ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। মো. জুলহাস (২৬) চট্টগ্রাম জেলা যুবলীগের সক্রিয় কর্মী।
ইমন হোসেন খান মানিক (২৫) ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী।মো. সাগর হোসেন (২৭) আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী।মো. ওহিদুল ইসলাম সুমন (৩৩) আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী।পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার দুপুরে মিরপুর হার্ট ফাউন্ডেশনের সামনে টহলরত অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোপন সংবাদ পায়।মুখে মাস্ক পরে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ জন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য মিরপুর পাইকপাড়া ডি-টাইপ স্টাফ কোয়ার্টারের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন রাস্তায় জড়ো হয়েছে। তারা সেখানে বসে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিল এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল।ওই তথ্যের ভিত্তিতে বিকেল ২টা ৪৫ মিনিটে ওসি সাজ্জাদ রোমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মুখোশধারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। বাকিরা কৌশলে পালিয়ে যায়।এ ঘটনায় মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ বলছে, তাদের কাছ থেকে সংগঠনের নাশকতার নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
অভিযান শেষে মিরপুর মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ রোমান সাংবাদিকদের বলেন,দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে কোনো সন্ত্রাসী বা ষড়যন্ত্রকারীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু পুলিশ সতর্ক আছে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আমরা এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখব।মিরপুর মডেল থানা সবসময় জনগণের পাশে থাকবে। যারা আইন ভাঙবে, মুখোশ পরে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনটির পুনরায় সংগঠিত হওয়ার প্রচেষ্টা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে।পুলিশ বলছে,এ অভিযানের মাধ্যমে শুধু তাৎক্ষণিক ষড়যন্ত্রই নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাব্য নাশকতাও প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
Leave a Reply